অফিস থেকে বাসাবাড়ি সব জায়গায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এখন অনেকেই নির্ভর করছে ইন্টিগ্রেটেড পাওয়ার সাপ্লাইয়ের (আইপিএস) উপর। বর্তমানে বৈদ্যুতিক সংকটের সময়ে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ঘরে ঘরে আইপিএসের চাহিদা বেড়েছে।
প্রযুক্তির এই সময়ে এসে এখন অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ কাজের জন্য আইপিএস জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই আমাদের আইপিএস কেনার আগে কিছু বিষয় জানা থাকলে সঠিক পণ্যটি কেনা সম্ভব।
তাছাড়া আইপিএস কেনার আগে ওয়াট, ভোল্টেজ, ব্যাটারি, চার্জ নিয়ন্ত্রণ— এসব হিসাব না করে কিনলে পরে লোকসান হয়। সঠিক চাহিদা বুঝে কিনলে পাঁচ-সাত বছরও চলে।
তাই চলুন জেনে নিই কিভাবে জানা যায় কার কত ওয়াটের আইপিএস লাগবে-
ওয়াট হিসাব করা: আইপিএস কেনার আগে হিসাব করতে হবে- আপনার ডিভাইস বা যন্ত্রগুলোতে কত ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।
যেমন- ১টি সিলিং ফ্যান (৭৫ ওয়াট), ৪টি এলইডি লাইট (৪×১৫ = ৬০ ওয়াট), ১টি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি (৮০ ওয়াট) = মোট ২১৫ ওয়াট।
এই চাহিদায় তিনশ থেকে পাঁচশ ওয়াটের আইপিএস যথেষ্ট। কিন্তু যদি ফ্রিজ (আড়াইশ ওয়াট) যোগ করেন— তাহলে মোট ৪৬৫ ওয়াট।
চাহিদার চেয়ে কম হলে লোড নিতে পারবে না। বেশি হলে অপচয়। পণ্যের গায়ে ওয়াট লেখা থাকে- সেটা দেখে হিসাব করুন।
ভোল্টেজ মেলানো: আইপিএসের ভোল্টেজ ইনপুট ও আউটপুট ক্যাপাসিটি এক হয় না। স্ট্যান্ডার্ড একশ থেকে তিনশ ভোল্ট।বাসার বিদ্যুতের ভোল্টেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।যেমন: আপনার এলাকায় ভোল্টেজ ১৮০ থেকে ২৬০ ভোল্টের মধ্যে ওঠানামা করে। তাহলে একশ থেকে তিনশ ভোল্টের আইপিএস নিন। ভোল্টেজ মিল না হলে আইপিএস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ব্যাটারি নির্বাচন: আইপিএসের মূল অংশ ব্যাটারি। ব্যাটারির অ্যাম্পিয়ার চাহিদার ওপর নির্ভর করে। যেমন: আপনি তিন ঘণ্টা ব্যাকআপ চান। চাহিদা তিনশ ওয়াট। তাহলে প্রয়োজন ১০০ থেকে ১৫০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। যদি ছয় ঘণ্টা ব্যাকআপ চান, তাহলে ২০০ অ্যাম্পিয়ার বা তার বেশি লাগবে।
সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি বেশি চলে। ব্যাটারির ওয়ারেন্টি থাকে দু-তিন বছর। এরপর নতুন লাগাতে হয়। ভালো ব্র্যান্ডের ব্যাটারির মধ্যে রয়েছে সিঙ্গার, লুমিনাস, রাহিমআফ্রোজ, হ্যামকো, লুকাস, স্পার্ক।
চার্জ নিয়ন্ত্রণ দেখুন: ইনভার্টার চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে। পুরানো আইপিএসে রিলে ব্যবহার হয়। আধুনিক আইপিএসে এসসিআর (সিলিকন কন্ট্রোল্ড রেক্টিফায়ার) থাকে। যেমন: এসসিআর থাকলে ব্যাটারি ওভারচার্জ বা আন্ডারচার্জ হয় না। চার্জিং সিস্টেম ভালো হলে ব্যাটারি চার পাঁচ বছরও চলে।
ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস চেক করুন: আইপিএসের স্থায়িত্ব ব্যাটারির জীবনচক্রের ওপর নির্ভর করে। ওয়ারেন্টি ব্যাটারির ওপরেই বেশি। ভালো ব্র্যান্ডের আইপিএসে দুয়েক বছরের ওয়ারেন্টি থাকে। কেনার সময় সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান জেনে নিন।
বাজারে আইপিএসের দাম: সিঙ্গার, ওয়ালটন, নাভানা, ফিলিপস, সুকান, লুমিনাস— এসব ব্র্যান্ডের আইপিএস বাজারে পাওয়া যায়। ৫০০ ওয়াট, ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি: ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ১০০ ওয়াট, ২০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি: ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা।
দাম নির্ভর করে ওয়াট, ব্যাটারি, ব্র্যান্ড ও ফিচারের ওপর। স্থানীয় উৎপাদনকারীর কাছ থেকে চাইলে নিজের চাহিদামতো আইপিএস বানানো যায়।
আইপিএস যেভাবে কাজ করে: আইপিএস মূলত ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ জমা করে। লোডশেডিং হলে ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আইপিএস দুই ধরনের- ইলেকট্রিক আইপিএস ও সোলার আইপিএস। ইলেকট্রিক আইপিএস বিদ্যুৎ থেকে চার্জ নেয়। সোলার আইপিএস সৌর প্যানেল থেকে চার্জ নেয়। সোলার আইপিএসের দাম বেশি, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কমায়।