আপনার শিশু হামের ভ্যাকসিন পেয়েছে কি? জানুন টিকা-কার্ড দেখে

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ হামে আক্রান্ত হলে শিশুদের জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দেয়। এই রোগের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও চোখে সমস্যা হতে পারে। হাম আক্রান্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে টিকা নিয়ে এই রোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

সম্প্রতি হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর মৃত্যুও হচ্ছে। এসময়ে নিজের শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। শিশুদের হমের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল কিনা সেটি নিশ্চিত হতে পারলে এই উদ্বিগ্নতা অনেকটা কমানো যায়।

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। একবার ৯ মাস বয়সে আর দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। এই দুই ডোজ টিকা নিলে সারা জীবনের জন্য হাম থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাই চলুন জেনে নিই কিভাবে টিকা-কার্ড দেখেই বুঝতে পারবেন আপনার শিশু হামের ভ্যাকসিন পেয়েছে কি না-

টিকা কার্ডে সবার নিচে এমআর সারিতে দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে।

শিশু কোন কোন রোগের টিকা পাচ্ছে সেই তথ্য টিকা কার্ডে উল্লেখ করে দেওয়া হয়। হামের টিকার নাম ‘এমআর’। কার্ডে থাকা টেবিলে টিকার নামের পাশে আরেকটি একটি কলামে টিকা প্রদানের তারিখ থাকে। এভাবে দুই কলামে ৬ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে। এই তারিখ দেখেই বোঝা যাবে আপনার শিশু দুই ডোজ হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে কি না।

শিশুকে সুস্থ রাখতে জন্মের পরপরই যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য বিসিজি টিকার একটি ডোজ দেওয়া হয়। এরপর শিশুর বয়স যখন ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ এবং ১৪ সপ্তাহ হয়, তখন প্রতিবার তিনটি করে টিকার ডোজ দিতে হয়। এগুলো হলো— ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি প্রতিরোধের জন্য পাঁচটি রোগের সমন্বিত পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন; নিউমোকক্কাল জনিত নিউমোনিয়া প্রতিরোধের জন্য পিসিভি ভ্যাকসিন এবং পোলিও প্রতিরোধের জন্য মুখে খাওয়ার বি ওপিভি (দুই ফোঁটা)। এই পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি এবং ওপিভি—এই তিনটি ভ্যাকসিনের প্রতিটির তিনটি করে ডোজ দিতে হয় এবং প্রতিটি ডোজের মাঝখানে ৪ সপ্তাহের বিরতি রাখতে হয়।

আরও পড়ুন  শীতে ৩ উপায়ে থাকবে ঘর উষ্ণ

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে হামের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও অনেকেই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভুলে যান।

  • ভ্যাকসিন
  • হাম