টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ক্ষতি বাড়ছে। গত দুদিনে আরও তিন হাজার হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে। এতে এ পর্যন্ত মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫০ হেক্টর।
রোববার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর এলাকা। এর মধ্যে শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার প্রায় ৩২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে দিনে দুই হাজার টাকা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান কৃষকরা। ফলে ধান জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।
মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি গ্রামের কৃষকরা জানান, ধান প্রায় সবই পানির তলে। যেটুকু আছে, সেটাও কাটতে পারছি না। পানির কারণে মেশিনেও কাটা যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকও মিলছে না। দিনে দুই হাজার টাকা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ইটনা পয়েন্টে ধনু ও বৌলাই নদীর পানি, চামড়াঘাটে মগরা নদীর পানি এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনো নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে মেঘনা, কালনী, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাই, মগরা, দাইরা, ঘোড়াউত্রা, ধলেশ্বরী, করাতিয়া কলকলিয়া, বৈঠাখালী, কলমারবাকের পানি বাড়ছে। এসব নদ-নদী উপচে হাওরে ঢুকে একের পর এক ফসলি জমি তলিয়ে দিচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, যেটুকু ধান কাটা হয়েছে, রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। খলায় রাখা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধার করে ধান চাষ করে এখন সব পানির নিচে।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ আহমেদ বাবু বলেন, ‘আমাদের এলাকা হাওর প্রধান। আমাদের এখানে প্রায় সব কৃষক তাদের ৪০ থেকে ৫০ ভাগ ধান হারিয়েছেন। এসব ধান এখন পানির নিচে।’
অন্যদিকে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৫৯ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।