সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙেছে দুটি, ডুবছে জমির ধান

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

সুনামগঞ্জে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এটি। সেইসঙ্গে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নামায় হাওর ও নদীতে পানি বেড়ে দুই উপজেলায় দুটি বাঁধ ভেঙে গেছে। যার ফলে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে, তলিয়ে যাচ্ছে জমির ধান।

সংবাদমাধ্যমকে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে হাওরের ৪৪ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। বোরো আবাদের অর্ধেক জমির ধান কাটা এখনো বাকি। সবকিছুই এখন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।

বৈরী আবহাওয়া, হাওরে পানির চাপ, বজ্রপাত আতঙ্কের মধ্যে ধান কাটা শ্রমিকের সংকটসহ নানা কারণে সংকট গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা।

গতকাল সোমবার রাত ও আজ মঙ্গলবার সকালের ভারী বৃষ্টিতে অনেক হাওরের জমির ধান তলিয়ে গেছে। আবার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের শুকানোর খলায় রাখা ধানও নষ্ট হয়ে গেছে।

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। আজ সকালে জেলার মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া গ্রামে ইকরাছই হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে গেছে। দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধও ভেঙে গেছে। বাঁধ দুটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাভুক্ত নয়। স্থানীয় লোকজন সংস্কার করেছিলেন।

এ ছাড়া দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরের হরিমণের বাঁধ উপচে হাওরে পানি ঢুকছিল। সকাল থেকে পাউবো কর্মকর্তারা ওই বাঁধে অবস্থান করছিলেন। বাঁধটির কাজ গত বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলে সেটি হয়নি।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী দুই দিনও অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উজানের পাহাড়ি ঢল নামবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকেরা মাঠে আছেন। এখন সবকিছুই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুন  সিলেটে ট্রাক-পিক আপ সংঘর্ষ, ৮ শ্রমিক নিহত

জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরপাড়ের দাসনোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরণ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল দিনেও জমিতে পাকা ধান রেখে গেছেন। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেছে। সকালে এসে দেখেন, সব ধান তলিয়ে গেছে।

কৃষকেরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক হাওরে আগেই জলাবদ্ধতা ছিল। অনেক ধানের ক্ষতি হয়েছে। এখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ধান কাটা-মাড়াই, শুকানোর সুবিধা নেই। এর মধ্যে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট আছে। ধানের মায়ায় বন্যা, ভারী বৃষ্টি আর বজ্রপাত আতঙ্ক মাথায় নিয়ে হাওরে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না।

সুনামগঞ্জ হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, পরিস্থিতি ভালো নয়। চোখের সামনে অনেক কৃষকের ধান তলিয়ে যাচ্ছে। হাওরে কৃষকের অসহায়ত্ব ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এদিকে যেকোনো সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে ফসলহানি হতে পারে। তাই সব বাঁধে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষায় এবার ১৪৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করেছে পাউবো।

সংস্থাটির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলো মাটির। এমনিতেই টানা বৃষ্টিতে এসব বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে আছে। তাই সব বাঁধেই তাঁরা নজর রাখছেন। কারণ, উজানের ব্যাপক ঢল নামলে অনেক বাঁধ চাপ সামলাতে পারবে না।

  • ডুবছে জমির ধান
  • বাঁধ ভেঙেছে দুটি
  • সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে