শিশুর সঠিক বিকাশে প্রয়োজন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

একটি শিশুর নিরাপদ আশ্রয় তার পরিবার। আর পরিবারে সবথেকে কাছের হলো মা-বাবা। তাই মা-বাবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শিশুর সঠিক বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক যদি হয় বন্ধুত্বপূর্ণ, সহজ-স্বাভাবিক; তবে শিশুর বেড়ে ওঠা হয় ইতিবাচক, সৃজনশীল। শিশুরা প্রকৃতিগতভাবে অনুসরণপ্রবণ। তারা যা দেখে, যা শোনে তাই শেখে। আর সবচেয়ে বেশি শেখে বাবা-মায়ের আচরণ থেকে। তাই বাবা-মায়ের রাগ, শাসন বা মানসিক দূরত্ব শিশুর মনে ভয় ও গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানে কখনোই শাসনের অনুপস্থিতি নয়; বরং এটি এক ধরনের ভালোবাসাপূর্ণ দিকনির্দেশনা। বন্ধুর মতো আচরণ শিশুকে শেখায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে পরিবারে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো  ও যোগাযোগ যেন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে আমাদের শিশুদের মানসিক বিকাশও পড়ছে হুমকির মুখে। এই অবস্থা থেকে আমাদের শিশুদের বাঁচাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক। চলুন যেনে নিই শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় কিভাবে-

১. সময় দেওয়া

শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হলো সময় দেওয়া। তার সঙ্গে গল্প করুন, এক সঙ্গে খেলুন, আঁকাআঁকি করুন বা হাঁটতে বের হন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাকে শেখায় যে বাবা-মা সব সময় পাশে আছেন। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন কিছুটা সময় আপনার শিশুর জন্য রাখুন।

২. প্রযুক্তির যুগে সময় ও যোগাযোগের চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সময়ে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন। কর্মব্যস্ত জীবনে বাবা-মা অফিস, কাজের চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটাই নিমগ্ন থাকেন যে সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ কমে গেছে। শিশুরাও তাদের একাকিত্ব কাটাতে নির্ভর হয়ে পড়ে টিভি, মোবাইল গেম কিংবা অনলাইন কনটেন্টে। যার ফলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। যা বাবা-মা ও সন্তানের বন্ধনকে দুর্বল করে ফেলে।

আরও পড়ুন  একক ভিসায় ভ্রমণ করা যাবে জিসিসিভুক্ত ৬ দেশ

যেখানে শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য দরকার বাস্তব সংলাপ, স্পর্শ, হাসি, মনোযোগ ও সময়— যা কোনো স্ক্রিন দিতে পারে না। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে সন্তানের সঙ্গে কাটানো জরুরি— যে সময়টুকুতে থাকবে না কোনো ফোন, ল্যাপটপ বা অফিসের ব্যস্ততা। সেই সময়ের মূল্য হয়তো মিনিটে গোনা যায় না, কিন্তু তার প্রভাব থাকে আজীবন।

৩. শিশুর কথা মন দিয়ে শুনুন

শিশুর গল্প, প্রশ্ন বা অভিমান মনোযোগ দিয়ে শুনলে সে ভাবে, তার অনুভূতির গুরুত্ব রয়েছে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুন্দর হয়।  

৪. তুলনার বদলে উৎসাহিত করুন

‘ও পারে তুমি কেন পারো না’— এ ধরনের তুলনামূলক কথা শিশুর মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করে। প্রত্যেক শিশুই আলাদা, তার নিজের গতি ও প্রতিভা আছে। তাই তুলনা না করে তার ছোট সাফল্যগুলোকেও প্রশংসা করুন।

৫. বকাঝকা না করে বোঝান

শিশুদের বেড়ে ওঠার পথে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভুল করলে রাগ না করে ধৈর্য ধরে বোঝান। এতে শিশুর মধ্যে ভয় নয় বরং দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

যেসব শিশু বন্ধুত্বপূর্ণ, উষ্ণ ও ভালোবাসায় ভরা পরিবেশে বড় হয়, তারা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী, সহনশীল ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। তারা নিজেদের মতপ্রকাশে নির্ভীক হয়, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে শেখে এবং দলগত কাজে পারদর্শী হয়। স্কুলে তাদের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো হয়। কারণ তারা মানসিকভাবে স্থিতিশীল ও মনোযোগী থাকে।

  • বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
  • শিশুর মানসিক বিকাশ