হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) ।
পারস্য উপসাগরে এক ‘নতুন ব্যবস্থা’ কার্যকর করার লক্ষ্যে তারা চূড়ান্ত পর্যায়ের সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কয়েক দিন আগেই ইরানের সংসদীয় কমিটি একটি খসড়া বিল অনুমোদন করেছে। তাতে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট ট্রানজিট ফি দিতে হবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ট্রানজিট ফি দিতে হবে ইরানের নিজস্ব মুদ্রায়। মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের যাতায়াতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ওই বিলে। পাশাপাশি যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে, তাদের পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত বিলে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আমেরিকা ও ইসরায়েল যদি সংঘাতের তীব্রতা বাড়ানোর পথে হাঁটে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যান্য নৌপথগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি।
তিনি বলেছেন, আমেরিকা বা ইসরায়েলের একটি ভুল পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বেলায়েতি বলেন, ‘প্রতিরোধের ঐক্যবদ্ধ কমান্ডের’ কাছে বাব এল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে হরমুজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রতিক্রিয়াতেই বেলায়েতির এই মন্তব্য করেন।
ইয়েমেনের উপকূলে অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যা সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রধান পথ।