চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) । ভারতের চেয়ে বেশি থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়।
মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল এক প্রতিবেদনে বলেছে, ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমান মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার। যা ভারতের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার হতে পারে।
মাথাপিছু জিডিপি হল একটি দেশের ব্যক্তি প্রতি অর্থনৈতিক উৎপাদনের পরিমাপ। একটি দেশের মোট জিডিপিকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই হিসাব করা হয়।
উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে গড় মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার; যেখানে বিশ্বব্যাপী এই গড় প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার।
২০২৫ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২ হাজার ৬৭৫ ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২ হাজার ৬৩৫ ডলারের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ সাধারণত বছরে দুইবার প্রকাশিত হয়, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
আইএমএফ বলছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।
আইএমএফ’র পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ৭৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর বাংলাদেশের হতে পারে ৩ হাজার ৪৮ ডলারের চেয়ে বেশি।
তবে আইএমএফ’র প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারত মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
২০২৬ সালে ভারতের সামগ্রিক জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার (৪.১ ট্রিলিয়ন), যা বাংলাদেশের ৫১ হাজার কোটি ডলারের (৫১০ বিলিয়ন) তুলনায় অনেক বেশি।