জাপানে শান্তিবাদী নীতির পরিবর্তন, অস্ত্র রপ্তানিতে তুলল নিষেধাজ্ঞা

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

যুদ্ধবিমানসহ প্রাণাঘাতী অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানের শান্তিবাদী সংবিধানে একটি বড় পরিবর্তন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে জাপান এখন থেকে কোন কোন অস্ত্র রপ্তানি করবে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি।

তাকাইচি বলেছেন, `এই সংশোধনীর ফলে নীতিগতভাবে সব প্রতিরক্ষা উপকরণ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। তবে গ্রাহক সেই দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে যারা জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। ক্রমবর্ধমান গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একক কোনো দেশই এখন একা তার নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারছে না।‘

জাপানের সংবাদপত্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানের তৈরি করা যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজসহ অন্যান্য অস্ত্র কেনার সুযোগ পাবে। জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়া। পরবর্তীতে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আরও দেশ সম্ভবত এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

সম্প্রতি জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ৭০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে। এই চুক্তির অধীনে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য ক্রয়াদেশ দেওয়া ১১টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম তিনটি তৈরি করেছে জাপানের ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওই চুক্তির পর জাপান তাদের শান্তিবাদী নীতি পরিবর্তন করে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির পদক্ষেপ নিল।

১৯৬৭ সালে প্রণীত ও ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা পূর্ববতী নীতিগুলোতে জাপানের সামরিক রপ্তানিকে নজরদারি ও মাইন অপসারণের মতো কাজে ব্যবহার হওয়া প্রাণঘাতী নয় এমন সমর উপকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে যুদ্ধ চলছে সেসব দেশে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনও বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে জাপান। তবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই বিধিনিষেধে ছাড় দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি দিচ্ছে বিজেপি সরকার
  • জাপান
  • শান্তিবাদী নীতির পরিবর্তন