স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) । সে অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের টপ প্রায়োরিটি (সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার) হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

তিনি আরও জানান, এ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে বলে বলেছিলেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে এবং কোন ধাপে কোন নির্বাচন হবে জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা এখন সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছি। সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বলতে পারব কোন নির্বাচন কবে, কোন তারিখে এবং কোন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।’

সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। কমিশন সব দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুন  গণভোটের ফল সংশোধন, 'হ্যাঁ' ভোট কমেছে প্রায় ১০ লাখ

এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

আইন ও বিধিমালা সংশোধনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কমবেশি তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।’

এদিকে জুন মাসের জাতীয় বাজেট, পরবর্তী বর্ষা মৌসুম এবং মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যে স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চাই ভবিষ্যতেও ভালো নির্বাচন হোক এবং জনগণের আস্থা বজায় থাকুক।’

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এবার কোনো প্রতীক থাকবে না, রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকবে না। আমি মনে করি, দলীয় সরকার থাকলেও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।’

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোও ভালো নির্বাচন চায়, সরকারও চায়। নির্বাচন কমিশনও ভালো নির্বাচনের জন্য যত ধরনের পদ্ধতি রয়েছে, সব পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করবে।’

সাক্ষাৎকারটি বাসস থেকে নেওয়া

  • ইসি
  • নির্বাচন কমিশন
  • নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
  • পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা
  • সাক্ষাৎকার
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  • সাক্ষাৎকার এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন: