দোকান খোলা রাখার সময় বেঁধে দেয়ায় বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ!

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

জ্বালানি সংকট মধ্যে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ দোকান, মার্কেট ও শপিংমলগুলো খোলা রাখার সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। সন্ধ্যা ৭টায় ওষুধ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া অন্যান্য দোকান বন্ধের বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় বেচাকেনা প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দিনের বেলা বন্ধের সময় বাড়িয়ে রাতে দোকান খোলা রাখার বিষয়টি সরকার পুর্নর্বিবেচনা করুক এমনটি চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে ক্রেতারা বলছেন, গরমে দিনের বেলা কিনতে আসাটা কষ্টের। তাই অনেকেই দুপুরের পর থেকেই কেনাকাটা করতে আসেন। এছাড়া সাংসারিক ও অফিসের কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাজারে আসেন অনেকে।

সকালে তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যদি দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সময় নির্ধারণ করা যায়, তাহলে বেচাকেনায় সুবিধা হয় বলে জোনিয়েছেন ক্রেতারা।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দোকান, মার্কেট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে দোকান মালিক সমিতির আবেদন পুনর্বিবেচনা করে গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে ৭টা পর্যন্ত দোকান, মার্কেট ও শপিংমল খোলার রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনা কমার কথা বলেছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

কাপ্তানবাজারের বড় বৈদ্যুতিক পণ্যের দোকান রাইয়ান ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী রমজান আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অফিস শেষে খুচরা ক্রেতারা আসে। একটা লাইট চেক করে দামাদামি করতেই চলে যায় ১০-১৫ মিনিট। কয়েকটা কোম্পানি দেখানোর পর একটা নেয়। এখন তো সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ করায় ক্রেতা আসছে না। বিক্রির সময়ে দোকানে তালা মারতে হয়। ঈদের পর এমনিতে বিক্রি কম, তারওপরও এই সংকটে বিক্রি কমে গেছে ২০ শতাংশের মতো।’

আরও পড়ুন  ‘ব্যানার চুরি ঠেকাতে’ সিসিটিভি!

ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোতে দিনের বেলা বিক্রি হয়। সেই পণ্য কুরিয়ারে পাঠানো, পাইকারি ক্রেতার কাছ থেকে বকেয়া টাকা উঠানোর সময় হচ্ছে সন্ধ্যার পর থেকে।

কাপ্তানবাজারের সেলিম ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমি পাইকারি বিক্রি করি। পাইকাররা আসেই দুপুরের পর। অনেকে মাল কিনে রেখে যায়, সন্ধ্যার পরে তা কুরিয়ারে পাঠাতে হয়। এখন তো কুরিয়ার পরের দিন চলে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, আমরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন আরেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাল কেনাবেচা করি বাকিতে। সন্ধ্যার পরে সেই টাকা পরিশোধ ও বাকি দেওয়া টাকা আদায় করি। এখন তো সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ, এখানেই সমস্যা হচ্ছে। কালেকশন করা যাচ্ছে না।’

শপিং মলে দিনে ও রাতে একই পরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার হয় দাবি করে মো. সেলিম বলেন, ‘সকালে আরো পরে দোকান খুলে দেরিতে বন্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে বেচাকেনার এই সমস্যা থাকবে না।’

সময় ঠিক না হওয়ায় বিক্রি ১০ শতাংশ নাই হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেন কাপ্তানবাজারের চাঁদপুর হার্ডওয়্যারের মালিক মোহসিন মিজি।

মৌচাক মার্কেটের অলংকার বিক্রেতা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করায় এই কয়দিনে বিক্রি ৩০ শতাংশ কমে গেছে।’

  • দোকান
  • বিদ্যু’