ঈদের ছুটিতে টাকা-গয়না থানায় রাখার পরামর্শ পুলিশের

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

ঈদে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি ‘অরক্ষিত অবস্থায়’ না রেখে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় রেখে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

তবে ঢাকায় কারো স্বজন না থাকলে তা থানায় রেখে যেতে বলেছেন তিনি।

ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা ও ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতে রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পুলিশ কর্মকর্তা সরওয়ার।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে নগরবাসীর ঈদযাত্রা সুগম করা এবং ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। রাজধানীবাসী যেন ‘নিরাপদে ও নির্ভাবনায়’ ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ডিএমপি ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হাতে নিয়েছে।

নগরবাসীর উদ্দেশে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “নগদ অর্থ স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না। এগুলো আপনার আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যাবেন।”

ঢাকায় যাদের স্বজন নেই, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মো. সরওয়ার বলেন, “প্রয়োজনে আমাদের পুলিশের সাহায্য নেবে, অসুবিধা কী! এ ক্ষেত্রে থানায় রাখতে পারে।”

ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ সময় অপরাধীরা যেন কোনো সুযোগ সুবিধা না নিতে পারে, সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদারসহ চেক পোস্টের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।”

নগরবাসীর উদ্দেশে সরওয়ার বলেন, “আপনাদের বাসা বা ফ্ল্যাটে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নতুন স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করছি। যেগুলা পুরাতন আছে, সেগুলাকে সচল করার ব্যবস্থা করতে হবে।”

বাসা বা ফ্ল্যাটবাড়ি ছাড়ার আগে দরজা জানালা ঠিকমত বন্ধ করা হয়েছে কি না এবং ঠিকমতো লক করা হয়েছে কি না তা দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

একইসঙ্গে বাসাবাড়ির আশেপাশে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি। বাসা ছাড়ার আগে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ চেক করে যেতে বলেন। ছুটির সময় পাড়া-মহল্লায় কোনো সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার।

আরও পড়ুন  মেগাকোয়েকে' ৩ লাখ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার রোজার মাসে বইমেলা, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক এলাকা এবং বাংলাদেশ পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের নিরাপত্তায় বাড়তি তৎপরতার কথা তুলে ধরেন।

এর বাইরে রাতে ছিনতাইকারী, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অপরাধপ্রবণ এলাকায় নির্মিত ব্লক রেইড পরিচালনার মত বিশেষ অভিযানগুলো চলমান রয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা সরওয়ার।

নগরবাসী যাতে বাসায় গিয়ে ইফতার করার সুযোগ পান, সেজন্য রোজায় নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি য় ছয় শতাধিক অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা সরওয়ার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সর্বসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ঘিরে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

“যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং মাত্রারিক্ত বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ।”

এছাড়া লক্কর-ঝক্কর গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে, সেজন্য ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি।

ঢাকার বহির্গমন সড়কগুলোর মধ্যে আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্থান থেকে সাইনবোর্ড, আমিনবাজার, মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ বা গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজ সড়ক এবং প্রয়োজন না থাকলে ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা এড়িয়ে চলার মরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, “ঢাকার বড় বড় বিপণিবিতানগুলোতে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে।

“ছিনতাই, অজ্ঞান, পার্টি মলম পার্টি, পকেটমারদের তৎপরতা রোধে পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ছাড়াও থানা পুলিশ এবং ফাড়ির পুলিশ মোতায়ন আছে।”

ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা ওভার স্পিডিং রোধ করতে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ভোটের মাঠে সক্রিয় সেনা-বিজিবি-পুলিশ

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা সরওয়ার বলেন, “আমাদের ক্রাইমপ্রবণ এলাকায় নিয়মিতভাবে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন তিনশর উপরে মোটরসাইকেল এবং গাড়ি যোগে মোবাইল পেট্রোল করতেছে।

“রাতের বেলা সত্তরের উপরে চেকপোস্ট আছে। আমাদের ফুট পেট্রোল অজস্র আছে। অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করে এলাকাগুলো কন্ট্রোল করা হচ্ছে।”

প্রতিবেদনটি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম থেকে নেওয়া