এখনও প্রস্তুত নয় পাটুরিয়া ফেরিঘাট, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ঘন্টা আগে

ঈদ আসতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। অথচ এখনও জরাজীর্ণ পাটুরিয়া ফেরিঘাট। পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়নি ঘাটের সংস্কার কাজ। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া হওয়ার কারণে যানবাহন ওঠানামায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়লে ফেরি পারাপারে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। ঈদ উপলক্ষে এ চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণত ঈদে পারাপার নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। তবে এবার এখনও তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার পাঁচটি ঘাট ভেঙে যায়, ফলে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সমস্যা হয়। ভাঙনের ছয় মাস পার হলেও এখনও ঘাটগুলো পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন জোড়াতালি দিয়েই পারাপার করা হচ্ছে।

ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অতিরিক্ত খাড়া হওয়ার কারণে যানবাহন ফেরি থেকে উপরে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই বিকল হয়ে পড়ে। পরে রেকার দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিকল যানবাহনকে টেনে তোলা হয়। এতে ওই ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপারে দেরি হয়। ঘাট এলাকায় তৈরি হয় যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

যানবাহনের চালকরা জানান, সংযোগ সড়কটি অতিরিক্ত খাড়া থাকায় ফেরি থেকে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন সংযোগ সড়কে আটকে পড়ে। এতে মাঝে মধ্যে ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে যানবাহনটি পেছনে পন্টুনে গিয়ে ঠেকে যায়। মাঝে মধ্যে নদীতেও পড়ে যায়। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে শাহ মাখদুম ফেরি থেকে নামতে গিয়ে একটি তেলবাহী দশ চাকার লরি সংযোগ সড়কে থেমে যায়। পরবর্তীতে লরিটি ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পেছন দিকে এসে নদীতে পড়ে যায়। এভাবে মাঝে মধ্যে যানবাহনগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

আরও পড়ুন  মেগাকোয়েকে' ৩ লাখ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের উপব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুস সালাম বলেন, নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পন্টুনগুলোকেও নিচে নামাতে হয়েছে। এতে সংযোগ সড়কগুলো বেশ খাড়া হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত যানবাহন ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। ফলে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। তবে ঢাল কমানোর জন্য বিআইডব্লিউটিএকে আমরা একাধিকবার জানিয়েছি।

ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষদের নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়েছে। ঘাটগুলো সচল থাকলে পারাপারে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।

এদিকে, সরেজমিন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল (শনিবার) থেকে পাটুরিয়ার তিনটি ঘাটেই সংযোগ সড়কের খাড়া ঢালগুলো স্বাভাবিক করার জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সমান করার কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। কাজের কারণে যানবাহন ফেরিতে উঠতে-নামতে দেরি হচ্ছে। তবে ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। এরই মধ্যে ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে তিনটি ঘাটের সংযোগ সড়কগুলো সমান করার কাজ শুরু করা হয়েছে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই অতিরিক্ত খাড়া সড়কটি স্বাভাবিক করা হবে।

অন্যদিকে, পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের অবস্থাও খারাপ রয়েছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে গত আগস্ট মাসে পাটুরিয়ার একমাত্র লঞ্চঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে পাটুরিয়ার দুই নম্বর ফেরিঘাটের পাশে পন্টুন বসিয়ে কোনোমতে যাত্রী পারাপার শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাটের পন্টুনে নামার সংযোগ সড়কটিও খাড়া থাকায় সেখানেও ওঠানামায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

ঘাট পাড়ের লোকজন জানান, সংযোগ সড়কটি এখনই সংস্কার করা না হলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

সূত্র: ইউএনবি নিউজ