বেলুচিস্তানে ৯২ স্বাধীনতাকামীকে হত্যা করেছে পাকিস্তান

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৯২ জন  স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছেন। গত শনিবার পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, নিহতরা সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদী।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বরা হয়েছে, শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ অন্তত আটটি জেলায় জাতিগত বেলুচ ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা’ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ‘সমন্বিত’ হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে একযোগে হামলা চালায়, যাতে প্রাথমিকভাবে আটজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হামলাকারীরা বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। এই ব্যাপক সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১৫ সদস্য।

এর আগে শুক্রবারও প্রদেশটির দুটি ভিন্ন স্থানে চালানো অভিযানে ৪১ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার কথা জানিয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী। কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এই প্রদেশে তীব্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মোকাবিলা করছে পাকিস্তান সরকার। বিদ্রোহীরা নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং বহিরাগত সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, তারা প্রদেশজুড়ে একযোগে বন্দুক ও আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিএলএ-এর দাবি অনুযায়ী, ১৫ ঘণ্টার এই অভিযানে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা করেছে।

পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, কোয়েটা, গোয়াদর, মাসতুং, নোশকি, পাঞ্জগুরসহ নয়টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই অস্থিরতার পেছনে প্রতিবেশী ভারতের মদত থাকার অভিযোগও করেছে।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আতাউর রেহমান জানান, গোয়াদরে অন্য প্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ১১ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে, নোশকির জেলা প্রশাসককে অপহরণের ঘটনায় ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উদ্বেগজনক। সশস্ত্র ব্যক্তিরা কিছু সময়ের জন্য কোয়েটার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখলে বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায়।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে মসজিদে ‘আত্মঘাতী’ বোমা হামলায় নিহত ৩১, নিহত শতাধিক

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ উন্নয়নের অভাব ও অবহেলার কারণে পাকিস্তানের আয়তনে বৃহত্তম এই প্রদেশটি এখনো দেশের অন্যতম দরিদ্র ও অস্থিতিশীল অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে।

  • পাকিস্তান
  • বেলুচিস্তান