গণগ্রেপ্তারে চরম আতঙ্কে ইরানের মানুষ

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের পর এবার দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক গণগ্রেপ্তার অভিযান। নতুন করে কোনো বিক্ষোভ যাতে দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্য সাদা পোশাকের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করছে। এর ফলে পুরো ইরানে এখন চরম অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধান সড়ক এবং চেকপয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হচ্ছে। একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, “কাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই গণগ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যই হলো সমাজে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। এমনকি ইরান সরকারের দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বিগত বছরগুলোতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত পাঁচ দশকের মধ্যে ইসলামি শাসনের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি শাসকদের পদত্যাগ দাবি করছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে। যদিও তেহরান এই সহিংসতার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’দায়ী করেছে।

প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে ব্যাপক গরমিল দেখা গেছে। সরকারি দাবি বিক্ষোভকালে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে এইচআরএএনএ  বলছে তথ্য বলছে, আন্দোলনে ইরানে ৬,৩৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৪২,৪৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে আহত বিক্ষোভকারীদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি যারা মানবতা রক্ষায় আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, সেই চিকিৎসক ও নার্সদেরও গ্রেপ্তার বা তলব করা হচ্ছে। বন্দিদের পরিবারগুলো এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুন  সিরিয়া থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অভ্যন্তরীণ এই সংকটের মাঝে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের শঙ্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসলে গত জুনের চেয়েও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

পশ্চিমা সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প সরাসরি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল আকাশপথে হামলার মাধ্যমে কয়েক দশকের পুরোনো এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব নয়।

  • ইরান
  • যুক্তরাষ্ট্র