ফরিদপুর জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক বিচারকের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ ও রুক্ষ ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে বুধবারও আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এর ফলে ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী এবং মামলার বাদী-বিবাদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল।
গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলুর সভাপতিত্বে এক জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার প্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা জরুরি। আমাদের দাবি স্পষ্ট—সংশ্লিষ্ট বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই বর্জন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।’
এদিকে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের ভিড় বাড়লেও কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক বিচারপ্রার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মামলার হাজিরা দিতে এসেছি। এখানে এসে শুনি আইনজীবীরা কাজ করবেন না। আগে জানলে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’
সালথা থেকে আসা এক বৃদ্ধ জানান, এমনিতেই আদালতে মামলার জট পাহাড়সম, তার ওপর এভাবে দিনের পর দিন আদালত বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দারের আহ্বানে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এক বৈঠকে বসেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আইনজীবীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বিচারক সেলিম রেজাকে বদলি বা অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা আদালতে না ফেরার সিদ্ধান্তে অটল।
আইনজীবীদের এই কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হলে ফরিদপুরের বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।