ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল প্রায় চূড়ান্তের কাজও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ বুধবার সন্ধ্যা কিংবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নাসির উদ্দিন টেলিভিশন ও বেতারে ভাষণের মাধ্যমে এ তফসিল জানাবেন।
সিইসির ভাষণ রেকর্ডের জন্যি আজ টিভি ও বেতারকে ডেকে পাঠানোর খবর আগেই জানানো হয়েছে। দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সিইসির সৌজন্য সাক্ষাতের পর বিকেলে ভাষণ রেকর্ডের প্রস্তুতি রয়েছে।ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে আসার পর বুধবার সন্ধ্যাতেই তা ঘোষণা করতে পারেন সিইসি। পরদিন দিনের যেকোনো ভাগেও তা হতে পারে।
ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেছে ইসি। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিইসি।
এর আগে নিজেদের মধ্যে সভা করে কমিশন তফসিল বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো এগিয়ে রেখেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত প্রায় দুই মাস বা ৬০ দিন ব্যবধান রাখা হবে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় আগের চেয়ে তুলনামুলক বাড়ানো হতে পারে।
একই দিন সংসদ ও গণভোট হওয়ায় এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাখা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহারের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে। আর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে তা আগেই জানা গেছে।
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি না:
এদিকে তফসিলে পর অনুমতি ছাড়া সব ধরনের আন্দোলন ও সমাবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। গতকাল দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, যারা এ ধরনের বেআইনি সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়, সেটিই এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিতে সরকার বর্তমানে মনোনিবেশ করছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জানি, অনেকেরই ন্যায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংগঠিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার ন্যায্য দাবিতে সবসময়ই সাড়া দিয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।’
বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে, সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’