চারুকলায় নববর্ষের শেষ প্রস্তুতি

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

প্রতি বছরের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে নববর্ষের শেষ প্রস্তুতি। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’ জন্য মোটিফ মোরগ, হাতি, দোতারার, ঘোড়া ও পায়রার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি মোটিফের সঙ্গে পাঁচটি পটচিত্রও থাকবে। এসব পটচিত্রের কাজও প্রায় শেষ।

‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইসরাফিল রতন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে শোভাযাত্রার জন্য গাড়িতে তোলা হবে।’

প্রতিবারই চারুকলা অনুষদ সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরে আয়োজন করে শোভাযাত্রা। এবার নববর্ষ উদ্‌যাপন হবে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে।

শোভাযাত্রার পটচিত্রে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহকারীদের ‘দেবী বনবিবি’, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, লোকচিত্রকলা গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলের চরিত্র বেহুলাকে তুলে ধরা হয়েছে।

পুরনো বছরকে বিদায় ও নববর্ষ উদ্‌যাপনে তিন দিনের আয়োজন থাকছে বলে জানিয়েছে চারুকলা অনুষদ।

বিদায়ী বছরের শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় বকুলতলায় নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটকসহ নানা আয়োজনে পালন করা হয় চৈত্র সংক্রান্তি।

নতুন বছরের প্রথম সকালে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে এ আয়োজন শেষ হবে।

এর পরের দুইদিন থাকবে যাত্রাপালা ও পালাগানের আসর।

নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেই অনুযায়ী, মুখোশ পরে ও ব্যাগ বহন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ নেই। তবে চারুকলা অনুষদের তৈরি মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। ভুভুজেলা বাজানো বা বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব কর্মসূচি বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে। পহেলা বৈশাখে যান চলাচল, বিশেষ করে মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন  ম্যালেরিয়ায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘বারের আয়োজনে পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে থাকছে। আমরা ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা আছেন। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত শঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘চৈত্রসংক্রান্তি দিয়ে আমাদের আয়োজন শুরু। এরপর শোভাযাত্রা হবে; ওদিন এখানেই শেষ। কারণ আমাদের সবার তো ক্যাম্পাসের বাইরে প্রোগ্রাম থাকে। এরপর ১৫ এপ্রিল আমাদের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটা যাত্রাপালা হবে, যেটার নাম ‘বাগদত্তা’। আর ১৬ এপ্রিল নেত্রকোণার এক পালা দল এখানে পরিবেশনা করবেন তাদের পালা, যার নাম হচ্ছে ‘বিবি সুলতানা’।’

  • চারুকলা
  • পহেলা বৈশাখ
  • বাংলা নববর্ষ