রংপুরে ডিজেল সংকটে সেচ প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে কৃষিতে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জমিতে সময়মতো সেচ দিতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
বোরো ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রংপুরের কৃষক। সংকট কাটাতে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলেছেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
জানা গেছে, রংপুরে ডিজেলের অভাবে অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে পড়েছে। সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ফসল নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, বোরো ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ জরুরি। ডিজেল না থাকায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে দুই-তিন লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না; যা দিয়ে কয়েক ঘণ্টাও সেচ চালানো সম্ভব নয়।
কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘জমিতে পানি দিতে না পারলে সব শেষ হয়ে যাবে।’
কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের বেশিরভাগ সেচ ব্যবস্থা ডিজেল নির্ভর। কিন্তু বর্তমান সংকটে সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এবারে এ জেলায় এক লাখ ৩২ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, জমিতে পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারলে বোরো ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে ক্ষেত মজুর পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবলু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সময়মতো ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে চলে যাবে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থায়ও ভরসা পাচ্ছেন না কৃষক। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেই ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না।
তবে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।