জ্বালানি পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নানা উদ্যোগ

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

জ্বালানি তেলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশের সকল পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আজ শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের সকল পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। 

এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি জোরদার করতে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। গতকাল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। তাতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদদারি ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাম্পে ট্যাগ অফিসার:

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসক একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। 

আর উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

ট্যাগ অফিসার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিটি পাম্পের দৈনিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর বা সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম:

জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি জোরদার করতে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে সরকার। শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক খুদে বার্তায় বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদদারি ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানে যৌথ হামলা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের

একই সঙ্গে অবৈধ মজুতদারির তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণসহ পরামর্শ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সারাদেশের প্রতিটি জেলায় গঠিত ভিজিলেন্স টিমের মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে জনগণ সহজেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল গ্রাহককে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি। একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বাভাবিক ক্রয় প্রক্রিয়া বজায় রেখে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন:

জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে অননুমোদিতভাবে তেল মজুতের অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৫ মার্চ থেকে দেশের ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করেছে। এর আওতায় ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুরে ৩টি, রাজশাহীতে ৩টি, সিলেটে ২টি, মৌলভীবাজারে ৩টি, কুমিল্লায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি এবং সুনামগঞ্জে ১টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় চলছে। 

ইউনিট সদর দপ্তর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এ সব ক্যাম্প থেকে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত, বিক্রয় প্রতিরোধ ও নাশকতা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। 

আরও পড়ুন  তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিপো এলাকায় বিজিবি’র দৃশ্যমান উপস্থিতি জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। 

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে অতিরিক্ত টহল, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।