গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের ফলাফল সংশোধনী করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) । নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে কমিশন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের সংখ্যায় পরিবর্তনের তথ্য জানিয়েছে। সংশোধিত ফলাফলে আগের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে।
সংশোধিত ফলাফলে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট কমলেও হ্যাঁ ভোটের সংখ্যায়ই এখনও বেশি জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আগের প্রকাশিত ফলাফলে করণিক ভুল ছিল, কিছু ডিজিট এদিক ওদিক হয়েছে। তা আজ সংশোধন করা হয়েছে। এখনও হ্যাঁ এর সংখ্যা বেশি, তাতে কোনো বিচ্যুতি হয় নি।’
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা ইসির সংশোধিত ফলাফলের গেজেটে বলা হয়েছে, নতুন হিসেব অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ টি যা পূর্বে ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি। এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ টি যা পূর্বে ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। প্রথম প্রকাশিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি।
সংশোধিত এই হিসেবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি ভোট। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রাথমিক গেজেটের হিসেব অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ জন এবং মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ইসির পরিসংখ্যানে বড় গরমিল, কোনো আসনে ভোট কাস্টিং ২৪৪%
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। মূলত এই গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।