ইরানের সঙ্গে সংকট সমাধানে প্রথমে কূটনৈতিক পন্থাই নিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রয়োজনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবেন না তিনি।
গত মঙ্গলবার ইরানকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদেরকে লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ সবসময়ই কূটনীতি। কিন্তু তিনি যেমনটি দেখিয়েছেন…প্রয়োজন পড়লে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করতেও ইচ্ছুক। এ বিষয়ে সবসময় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
মার্কো রুবিও মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজেই কংগ্রেসের ৮ সদস্যের দল (গ্যাং অব এইট) এর কাছে ব্রিফিং দেবেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তিনি আইনপ্রণেতাদেরকে ইরান নিয়ে এই ব্রিফিং দেবেন, বলছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন নয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেই সংঘাত অনেকটাই বেড়েছে। প্রায়ই দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনাও।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দু’দফা বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও মীমাংসা হয়নি। ট্রাম্প প্রায়ই ইরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ইরানকে ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে বোঝাপড়ায় আসার কথা বলেছেন তিনি।
ট্রাম্পের কথায়, “কয়েক বছর ধরে এটি প্রমাণিত যে, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হওয়া সহজ নয়। কিন্তু আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বোঝাপড়ায় আসতে হবে। না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।”
সেই ‘খারাপ কিছু’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তবে ইরানের কাছে সম্প্রতি সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অঞ্চলে রণতরীসহ ৫০-এর বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তিপ্রদর্শনের মাঝে ইরানও পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। আর এই প্রণালীর কাছেই মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ।