সব ধরনের সর্দি-কাশি-ফ্লু থেকে এক টিকাতেই সুরক্ষা!

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

একটি মাত্র নেজাল স্প্রে বা নাকে দেওয়ার টিকার মাধ্যমে সব ধরসের কাশি, সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছেন মার্কিন গবেষকরা। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষকদল জানিয়েছে, এই ‘সার্বজনীন টিকা’ শুধু সংক্রমণই ঠেকাবে না, বরং অ্যালার্জির সমস্যাও কমিয়ে আনতে পারে। গবেষক দলটি ইতিমধ্যে প্রাণীদের ওপর এই টিকার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এখনও মানুষের ওপর টিকাটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো বাকি। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত টিকার যে ধারণা, তা থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা বা একটি ‘আমূল পরিবর্তন’।

সাধারণত প্রচলিত টিকাগুলো শরীরকে নির্দিষ্ট কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়। যেমন, হামের টিকা শুধু হামের বিরুদ্ধেই কাজ করে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এডওয়ার্ড জেনারের শুরু করা এই পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি একটি নতুন পথ দেখিয়েছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণু চিনতে শেখায় না; বরং এটি রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের পদ্ধতিকে অনুকরণ করে।

এটি ন্যাজাল স্প্রে হিসেবে ব্যবহারের পর ফুসফুসের শ্বেত রক্তকণিকা বা ‘ম্যাক্রোফেজ’-কে সবসময় সতর্ক অবস্থায় (অ্যাম্বার অ্যালার্ট) রাখে।ফলে যে কোনও ধরনের জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশের চেষ্টা করলে এই কোষগুলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকে।

প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই সতর্ক অবস্থা প্রায় তিন মাস বজায় থাকে এবং ফুসফুসে ও দেহে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে ১,০০০ গুণ পর্যন্ত কমায়।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক বালি পুলেন্দ্রান বিবিসি-কে বলেন, এই টিকা কেবল ফ্লু বা কোভিড ভাইরাস নয়, সাধারণ ঠান্ডার ভাইরাস নয়, বরং প্রায় সব ধরনের ভাইরাস এবং স্ট্যাফিলোকক্কাস ও অ্যাসিঙ্কটোব্যাক্টরের নামক দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও সমান কার্যকর।

এমনকি এটি ঘরের ধুলিকণা থেকে হওয়া অ্যালার্জিক অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের প্রবণতাও কমিয়ে আনে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসে ৮৫০টি মশা

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাক্সিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড্যানিয়েলা ফেরেরা এই গবেষণাকে ‘অত্যন্ত চমকপ্রদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, মানুষের ওপর পরীক্ষায় সফল হলে এটি সাধারণ রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষায় এক ‘বিরাট মাইলফলক’ হবে।

তবে এই টিকা নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। ইঁদুর ও মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য থাকায় মানুষের ওপর এটি কতটা কার্যকর হবে এবং কতদিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সতর্কাবস্থায় রাখা যাবে তা জানা নেই। সে কারণে গবেষকরা একজন মানুষকে টিকা দিয়ে তারপর তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংক্রমিত করে দেখতে চান যে, দেহ সেক্ষেত্রে কীভাবে সাড়া দেয়।

লিভারপুল স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক জোনাথন বল সতর্ক করে বলেছেন, শরীরকে সব সময় ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত শরীরের নিজস্ব সুস্থ কোষের ওপর আক্রমণ (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) যাতে করে না বসে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।

গবেষকরা মনে করছেন, এই টিকা বর্তমান প্রচলিত টিকার পরিবর্তে কাজ করবে না বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষ করে ২০২০ সালের কোভিডের মতো কোনও মহামারীর শুরুতে যখন সুনির্দিষ্ট টিকা তৈরি হতে সময় লাগে, তখন এই সার্বজনীন টিকা জীবন বাঁচাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

  • টিকা
  • সর্দি