সপ্তাহের শেষেই ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা

লেখক: প্রতিধ্বনি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

ইরানে যেকোনো সময় সামরিক অভিযান শুরুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ (আগামী শনিবারের মধ্যে) এই হামলা হতে পারে। তবে অভিযানের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো দেননি।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান ও নৌবাহিনীর শক্তি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থানরত বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’-কে জরুরি ভিত্তিতে পারস্য উপসাগরের দিকে যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে মোতায়েন করা যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং ট্যাংকারগুলোকেও মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলার আশঙ্কায় ইরানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’র স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো দ্রুত কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ওমান উপসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হামলার লাভ-ক্ষতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। এর আগে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে তাঁকে ব্রিফ করেন জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘ আলোচনার পরও ওই বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান আসেনি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ, তবে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সামরিক পদক্ষেপের পথও সমানভাবে খোলা রাখা হয়েছে।”

অবশ্য হামলার সময় নির্ধারণে কিছু বিষয় বাধা হতে পারে। কারণ হামলাটি ঠিক কবে হবে, তা নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক সমীকরণ কাজ করছে। সিএনএন বলছে, সে বিষয়গুলো হচ্ছে-

আরও পড়ুন  ‘ব্যানার চুরি ঠেকাতে’ সিসিটিভি!

শীতকালীন অলিম্পিক: আগামী রোববার ইতালিতে শীতকালীন অলিম্পিক ২০২৬-এর আসর শেষ হচ্ছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, অলিম্পিক চলাকালীন বড় কোনো সামরিক সংঘাত এড়াতে চায় ওয়াশিংটন।

রমজান মাস: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এই সময়ে হামলার বিরোধিতা করছে।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন: আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ভাষণের আগে তিনি যুদ্ধে জড়াবেন কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতির পথে হাঁটবেন নাকি সামরিক শক্তির প্রয়োগ করবেন, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।