দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব রেকর্ড চুরমার হয়ে যাচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। এবার ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। দেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ দর।
আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রাতে বিজ্ঞপ্তি দিলেও আজ ব্যতিক্রমীভাবে সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে এই ঘোষণা দেয়।
৫ বছরে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি:
করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশি ও বিদেশি উভয় বাজারে সোনার দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো সোনার ভরি ১ লাখ টাকা স্পর্শ করে। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে দাম ছাড়িয়ে যায় দেড় লাখ টাকার ঘর। ওই বছরের অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে সোনার বাজার দর। আর চলতি বছরের প্রথম মাসেই একাধিক দফায় বেড়ে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম আড়াই লাখ ছাড়িয়ে এখন পৌনে তিন লাখের কাছাকাছি।
সোনার নতুন দর:
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনা ৭,৩৪৮ টাকা বেড়ে ২, ৬৯,৭৮৮ টাকায় পৌঁছেছে। ২১ ক্যারেটে সোনার দাম ভরি প্রতি দাঁড়িয়েছে ২, ৫৭, ৫২০ টাকা। এবং ১৮ ক্যারেট সোনা ২,২০,৭৪০ টাকা ভরি।
কেন এই আকাশচুম্বী দাম?
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত দাম বৃদ্ধিই এর মূল কারণ।
প্রতিবেদনটি তৈরির সময় বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক লাফে ১৬২ ডলার বেড়ে ৫ হাজার ২৫৪ ডলারে পৌঁছায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ওপর বিনিয়োগকারীদের অতিনির্ভরশীলতাই এই অস্বাভাবিক দামের নেপথ্যে কাজ করছে।
গতকাল মঙ্গলবারও এক দফায় ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যা মাত্র এক দিনের মাথায় আবারও বড় অংকের লাফে নতুন রেকর্ড গড়ল।