প্রতিদিনের কাজে দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা বিভিন্ন কাজে সতর্ক থাকার চেষ্টা করি। এর মধ্যে রাতে ঘুমানোর আগে আমরা কিছু বাড়তি কাজ করে থাকি। তবে এসব কাজ ছাড়াও রাতে ঘুমানোর আগে আমরা হয়তো এমন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যেগুলো নজরে রাখছিনা। এর মধ্যে রয়েছে রাতের ঘুমানোর আগে কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখা। অথচ ছোট ছোট এসব অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে মহাবিপদ। তাই এখন থেকেই রাতে ঘুমানোর আগে আমরা এসব ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি যাতে এড়ানো যাবে আগুন লাগার মতো অনেক গুরুতর বিপদ। এছাড়াও রাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্লাগে লাগানো যন্ত্র বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে থাকে। বিপদ এড়াতে ও বৈদ্যুতিক খরচ কমাতে আমাদের রাতে ঘুমানোর আগে যেসব প্লাগ খুলে রাখা জরুরি-
এক, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে চার্জ দেয়া শেষ হলে ঘুমানোর আগে অবশ্যই খুলে রাখুন প্লাগ। কারণ আধুনিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট সাধারণত শতভাগ চার্জ হলে নিজে থেকেই চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তবুও এগুলো প্লাগে লাগানো থাকলে সামান্য হলেও বিদ্যুৎ খরচ চলতেই থাকে। ফলে মাস শেষে বিল বাড়ে, অথচ কোনো উপকার পাওয়া যায় না।
এছাড়াও রাতভর চার্জে থাকলে যন্ত্র ও চার্জারের মধ্যে তাপ তৈরি হয়। যার ফলে ব্যাটারি বেশি দিন টিকে থাকে না। তাই ঘুমানোর আগে চার্জ শেষ হলে প্লাগ খুলে রাখাই নিরাপদ।
দুই, বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত যন্ত্রের ব্যবহারে। এই ধরনের ব্যাটারি চার্জের সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগা বা বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পাওয়ার ব্যাংক, রিচার্জেবল টুথব্রাশ, ত্বক পরিচর্যার যন্ত্র। এসবের ব্যাটারি পুরানো হলে, চার্জার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা প্রস্তুতকারকের অনুমোদনহীন চার্জার ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এসব যন্ত্র পুরো চার্জ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্লাগ খুলে রাখা এবং রাতে ঘুমিয়ে গেলে চার্জ না দেওয়াই নিরাপদ।
তিন, টেলিভিশন, গেইমিং কনসোল কিংবা সেট-টপ বক্স- বন্ধ থাকলেও প্লাগে লাগানো থাকলে বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। এই সমস্যার সহজ সমাধান হল একটি সকেট। এমন দেওয়ালের সকেট থেকে একসঙ্গে একাধিক যন্ত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়। একাধিক যন্ত্র একটি পাওয়ার সকেটের আলাদা আলাদা পয়েন্টে লাগিয়ে রাখলে রাতে শুধু সকেটটি বন্ধ করলেই সব যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এতে আলাদা করে প্রতিটি প্লাগ খুলতে হয় না এবং দিনে আবার ব্যবহার করাও সহজ হয়। এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ শুধু সাশ্রয়ই হয় না বরং যন্ত্রের নিরাপত্তাও বাড়ে।
চার, রান্নাঘরের কিছু যন্ত্র যেমন- কফি মেশিন, বৈদ্যুতিক কেটলি, টোস্টার কিংবা মিক্সারের মতো যন্ত্র প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় বলে এগুলো ঝুঁকিমুক্ত নয়। এসব যন্ত্র উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাই কেটলির তলানীতে ত্রুটি বা টোস্টারের ভেতরে জমে থাকা কণা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগাতে পারে। রাতে প্লাগ খুলে রাখলে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
পাঁচ, ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরানো যন্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে অবহেলা নয়। যে কোনো যন্ত্র যদি অস্বাভাবিকভাবে গরম লাগে, প্লাগ ক্ষতিগ্রস্ত মনে হয় বা নড়াচড়া করলে শব্দ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেটির প্লাগ খুলতে হবে। প্রতিদিনের ব্যবহৃত পুরানো বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র যা প্লাগে লাগানো থাকার কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।