
আজ ১ জানুয়ারি। ভোরের সূর্যের সাথে সাথে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে বিশ্বজুড়ে শুরু হলো নতুন বছর, ২০২৬। এটি কেবল একটি তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক বৈশ্বিক অঙ্গীকার। বাংলাদেশে এবারের নববর্ষটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের একটি সন্ধিক্ষণ।
ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি নতুন বছরকে জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, `নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনার সূচনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের যে কঠিন পথ বেছে নিয়েছি, ২০২৬ সালে তার পূর্ণতা পাওয়ার সময় এসেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, `সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এই নির্বাচন ও গণভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে এবং আমরা একটি বৈষম্যহীন সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ণিল আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘড়ির কাঁটা ১২টা বাজার সাথে সাথে আতশবাজি ও ফানুসের আলোয় আকাশ রাঙিয়ে তরুণরা নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। সব গ্লানি মুছে দিয়ে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমনটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।