২১ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ; হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

টানা চার দিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে দেশ। আজ বুধবার সকালে রাজধানীসহ কিছু এলাকায় সূর্যের দেখা মেলায় কুয়াশার দাপট কিছুটা কমলেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। আজ রেকর্ড করা হয়েছে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হাড়কাঁপানো এই ঠান্ডার সাথে হিমেল হাওয়ায় দেশের ২১ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এই মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া রাজশাহী বিভাগেও হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে, সেখানে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানিয়েছেন, বর্তমানে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬টি জেলা এবং মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ মোট ২১টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও দুই-একদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভোরে যারা কাজের সন্ধানে বের হন, কনকনে ঠান্ডায় তাদের হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের আয় কমে গেছে মারাত্মকভাবে। তীব্র ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় তারা পর্যাপ্ত যাত্রী বা কাজ পাচ্ছেন না। সিরাজগঞ্জের এক দিনমজুর জানান, “হাত-পা জমে যায়, কাজ করা তো দূরের কথা, শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাই দায়।”

শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ফসলে পচন ধরার ভয় বাড়ছে।

শীতজনিত রোগ যেমন—নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই তীব্র শীতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে শীতকালীন রোগীর ভিড় লক্ষ করা গেছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসে ৮৫০টি মশা

কুয়াশা কিছুটা কমলেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এতে বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবহাওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রিকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী দু-তিন দিন তাপমাত্রা কমার এই প্রবণতা বজায় থাকবে। তবে কুয়াশা ধীরে ধীরে কমে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। আকাশ পরিষ্কার হলে দিনের বেলা রোদের দেখা মিললেও রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র এই শীতে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে এখন উষ্ণতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সারাদেশের মানুষ।

  • শৈত্যপ্রবাহ