জেনারেশন জি আন্দোলনের পর আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নেপালের সংসদীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন র্যাপার বালেন্দ্র শাহ যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত।
দলীয় কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা সোমবার জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী, এই নির্বাচনে আরএসপি (রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি) জয়লাভ করলে ৩৫ বছর বয়সী বালেন হবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, আর ৪৮ বছর বয়সী লামিছানে দলীয় প্রধান হিসেবেই থাকবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্চে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে এই দুই জনপ্রিয় নেতা একটি জোট গঠন করেছেন। এই জোট নেপালের রাজনীতিতে গত তিন দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী পুরোনো দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবং মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস-কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
দলীয় কর্মকর্তারা জানান, রোববার এক সিদ্ধান্তে কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র এবং র্যাপার থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়া বালেন আরএসপি-তে যোগ দিয়েছেন। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক টেলিভিশন সঞ্চালক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া রবি লামিছানে।
লামিছানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন। একজন টিভি সঞ্চালক হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সমবায় সমিতিগুলোতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
উভয় নেতাই গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘জেনারেশন জি’ আন্দোলনের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, ‘বালেন এবং তার তরুণ সমর্থকদের নিজেদের দলে টেনে নেওয়া আরএসপি-র জন্য একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের তরুণ ভোটারদের আরএসপি-র কাছে হারানোর ভয়ে এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।’
অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত রয়টার্সকে বলেছে, ‘বালেন এবং লামিছানে—উভয়েই ‘বিতর্কিত’ নেতা এবং তাদের এই জোট বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমি মনে করি না তাদের এই জোটের কারণে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে। মানুষ এখনো পুরোনো এবং অভিজ্ঞ দলগুলোকেই বেছে নেবে।’
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নেপালের ৩ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। সেপ্টেম্বর আন্দোলনের পর ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ।
সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকে বালেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এছাড়াও তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনেও সহায়তা করেছেন। সরকারটি বর্তমানে আসন্ন এই নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।