
বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবজাতির সমৃদ্ধি কামনায় রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে এই দিনে বেথলেহেমের এক গোশালায় কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু খ্রিস্ট। তার সেই আগমনী বার্তাকে ঘিরেই উৎসবের আমেজে মেতেছে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়।
বড়দিন উপলক্ষে বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বাড়িতে বাড়িতে রঙিন স্টার, ক্রিসমাস ট্রি এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এক মায়াবী পরিবেশ। আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা। দিনটিতে শুভেচ্ছা বিনিময়, কেক-পিঠা তৈরি এবং বিশেষ ভোজের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন সবাই।
রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল থেকে শুরু করে বড় শপিংমলগুলোও সেজেছে বর্ণিল সাজে। শিশুদের বাড়তি আনন্দ দিতে উপহারের ঝুলি নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে সান্তাক্লজকে।
বড়দিনের মূল আকর্ষণ ছিল গির্জার প্রার্থনা সভা। রাজধানীর কাকরাইলে ‘সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রাল’, তেজগাঁওয়ের ‘হলি রোজারি’ চার্চসহ বিভিন্ন গির্জায় যিশুর জন্মের প্রতীকী গোশালা তৈরি করা হয়েছে। কাকরাইল সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রালের ফাদার আলবার্ট রোজারিও প্রার্থনাকালে বলেন, সারা বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক। মানুষের জীবন হয়ে উঠুক প্রেমময় ও ভালোবাসায় পূর্ণ। সবার প্রতি সবার ভালোবাসাই হলো বড়দিনের আসল সার্থকতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালটি যিশুর জন্মের ‘জুবিলী বর্ষ’ হওয়ায় এবারের উদ্যাপন অন্যবারের চেয়েও বেশি আনন্দময়। নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও অত্যন্ত উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সবাই বড়দিন উদ্যাপন করছেন।
সেন্ট মেরীস ক্যাথিড্রালের আরেক ফাদার কিউবার বলেন, বড়দিন আমাদের সার্বজনীন একতা ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের শিক্ষা দেয়। আমরা যেন নৈতিক জীবনে আরও সুন্দর পথে চলতে পারি এবং মানুষের সেবা করতে পারি, এটাই আজকের দিনের অঙ্গীকার।
প্রার্থনায় অংশ নিতে আসা বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের কণ্ঠেও ছিল শান্তির সুর। ময়মনসিংহ থেকে আসা সুকৃতি এবং গোলাপবাগের পার্বতী রুরাম সবার মনে আনন্দ ও ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।